Home » কক্সবাজার » পৃথিবীতে শান্তি নামক অতি কাম্য অবস্থা এখন নেই -বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ (স.) এর অবদান শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

পৃথিবীতে শান্তি নামক অতি কাম্য অবস্থা এখন নেই -বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ (স.) এর অবদান শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ::

বর্তমান পৃথিবীতে শান্তি নামক অতি কাম্য অবস্থা এখন নেই বললেই চলে। দেশ, জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র থেকে বৃহদাকারে অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। চারিদিকে এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় মানুষ উদ্বিগ্ন। শক্তিমান দ্বারা দুর্বলরা প্রতিনিয়তই নির্যাতিত-নি®েপষিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি-স্বস্তির ব্যাপক অভাব প্রকাশিত হচ্ছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হওয়া সত্ত্বেও মানুষের দ্বারাই সুজলা-সুফলা এ ধরণী আজ অশান্ত।

বৃহস্পতিবার (১১ জানয়ারী) বিকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ (স.) এর অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে কথাগুলো উঠে আসে। প্রবন্ধ উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী। সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন কাদেরী। সীরাতুন্নবী (স.) উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার এই সেমিনারটি আয়োজন করে।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, যুদ্ধ, মারামারি, খুন-জখম, হামলা, অবিচার, পাপাচার এর ফলে পৃথিবী আজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। সামান্য অজুহাতেই এক দেশ আরেক দেশের উপর হামলা করছে, দখল করে নিচ্ছে। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হয়ে যাচ্ছে পরাধীন দেশের কাতারে। একদেশ আরেক দেশকে অর্থ-অস্ত্র-বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করছে অন্যদেশকে ঘায়েল করার জন্য।

মুক্তিকামী মানুষের উপর বাহিনী লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে দমন নিপীড়নের জন্য। হাজার বছর ধরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্ছিত করা হচ্ছে, তাদের ভিটেমাটি কেড়ে নিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। বসত-বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে সেখানে নিজেদের বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার কর্তৃক সেদেশের ভিন্ন মতাবলম্বী নাগরিকদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, দমন করা হচ্ছে। দলপ্রীতি-স্বজনপ্রীতি এত প্রসারিত হয়েছে যে সেখানে অন্যদের সুযোগ-সুবিধার কথা, অধিকারের কথা ভাবাই দুরূহ।দুর্নীতি, অপরাধ, অবক্ষয় এর ব্যাপকতা বেড়েই চলছে। পারিবারিক রীতিনীতি ও আচার ব্যবস্থা ভেংগে পড়ছে।দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধুলিস্যাত হতে চলেছে আজকের পরিবার গুলোতে। পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, স্বামী-স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক দুরত্ব, অবিশ্বাস আর অমিল পারিবারিক সুখ-শান্তিকে বিনষ্ট করে চলেছে।

সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, সততা ও নৈতিকতার মাত্রা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে লেগে আছে নিত্য নতুন সমস্যা আর অস্থিরতা। ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে সুখের পারিবারিক সংগঠনগুলো। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় পর্যায়ে। এক কথায় শান্তি অনুপস্থিত।

অশান্ত পরিস্থিতির ফল স্বরুপ সমাজে, রাষ্ট্রে এমনকি পুরো বিশ্বে অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসবাদের জন্ম নিয়েছে। মানুষ নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে সুখ খোজার চেষ্টা করছে।বিশ্বব্যাপী যে অস্থিরতা তা মূলতঃ সামগ্রিক অশান্তিরই বহিঃপ্রকাশ।

ইন্সটিটিউট ফর ইকোনোমিক্স অ্যান্ড পীচ এর রেফারেন্স তুলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, অশান্ত পরিস্থিতির পরিণতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক আর সামাজিক ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাতœক। অশান্ত দেশে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ব্যাপকহারে কমে যায়। মুদ্রাস্ফীতি কিংবা মন্দাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যুদ্ধ কিংবা অস্থিশীলতার কারণে সিরিয়ার জিডিপি ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৫৩% কমে গেছে।

মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়।অশান্ত পরিস্থিতির ফলে বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। দেশে ছেড়ে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রবণতা বেড়ে যায়।বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়ে যায়, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

প্রবন্ধে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অশান্তির পেছনে যেসকল কারণ দায়ী রয়েছে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে এ জন্য অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক সহিংসতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, সন্ত্রাস, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা, উগ্র জাতীয়তাবাদ, অবিচার, জুলুম ও দুঃশাসন, প্রতিশোধ স্পৃহা, আদর্শনেতৃত্ব সংকট, শান্তি স্থাপনে গৃহীত ব্যবস্থার অসারতাকে দায়ী করা হয়েছে।

প্রবন্ধকার সবশেষে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবতার সুন্দরতম আদর্শ প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)ই সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত জানিয়ে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপক এডওয়ার্ড মুনন্ট এর রেফারেন্স টেনে বলেন, “চরিত্র গঠন ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (সাঃ) যে সাফল্য অর্জন করেছেন সেদিক থেকে তাঁকে বিশ্বমানবতার মহান দরদী নেতা বলে প্রতীয়মান হয়।”

প্রিয়নবীর (সাঃ) মহানুভবতার কথা বলতে যেয়ে মক্কা বিজয়কালীন ইতিহাস তুলে ধরে ঐতিহাসিক গীবন বলেন, “হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর পদতলে দুশমনদের পেয়েও একে একে সব দুশমনকে মাফ করে দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন অনুরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর সুদীর্ঘকালের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি আর নেই। সেই ঔদার্য ও ক্ষমাশীলতার দ্বিতীয় কোন দৃষ্টান্ত আর দেখা যায় না।”

জর্জ বার্নাড’শ বলেছেন-“আমি ভবিষ্যৎ বাণী করছি যে, আগামীতে মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিশ্বাস (ধর্ম) ইউরোপের কাছে গ্রহণীয় হবে যেমনটা তা ইতিমধ্যেই ইউরোপের কাছে গ্রহণীয় হতে শুরু করেছে।”

ইংরেজ কবি জন কীটস বলেন, পৃথিবীর যা কিছু মঙ্গলময়, যা কিছু মহৎ ও সুন্দর সবই নবী মুহাম্মদ (সাঃ)। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। এভাবে আমরা দেখতে পাই জন ডেভেন পোর্ট, ডা. স্যামুয়েল জনসন, প্রফেসর স্টিফেন্স, জন উইলিয়াম ড্রেপার, ওয়াশিংটন আরভিং, এডওয়ার্ড মুনন্ট, রেভারেন্ড ডব্লিউ স্টিফেন, রেমন্ড এলিয়ন নিকলসন, পি.কে. হিট্টি, জেম¯ এ মিসেনার, আর্থার গিলমান, মরিস গড ফ্রে, টি ডব্লিউ আরনল্ড, ষ্টানলি লেনপুল, বসওয়ার্থ স্মিথ, মেজর আর্থার লিউনার্ড, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, জর্জ বার্নার্ড শ, বার্ট্রেন্ড রাসেল, টমাস কার্লাইল, ডঃ গুস্তাভ উইল, এ্যানি বেসান্ত, স্যার গোকুল চন্দ্র, জোসেফ হেল, ডঃ গেসটাউলি, আলফ্রেড মার্টিন, রর্বাট বিফ্রো, এডমন্ড বার্ক, লা মার্টিন, ক্যাডফ্রে হেগেল, মানবেন্দ্রনাথ রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাতœা গান্ধী, পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুসহ পৃথিবীর অসংখ্য খ্যাতনামা ব্যক্তিগণ মহানবী (সাঃ) স¤পর্কে প্রশংসার বাণী উচ্চারণ করেছেন। এসব বিশ্ববরেণ্য মনীষীগণ মহানবী (সাঃ) এর আদর্শ এবং জীবনের নানাবিধ কর্মকান্ডের ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ করে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুন্দরতম চরিত্র, অনুপম আদর্শ, নির্ভীকতা ও সহনশীলতার মাধুর্য দেখে। তাঁর সততা, কতর্ব্যপরায়ণতা, ন্যায়নীতি, ক্ষমা, দয়া এবং নিষ্ঠা দেখে তাঁরা অভিভূত হয়ে পড়েন।। সর্বোপরি তাঁরা এটাও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শই মানবতার মুক্তির একমাত্র পথ যা বিশ্বশান্তিকে নিশ্চিত করতে পারে।

সেমিনারের সভাপতি কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামলি (মাস্টার্স) মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ জাফরুল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক মমতাজ উদ্দিন কাদেরী বলেন, সুখ আর শান্তি এক নয়। সুখ সহজেই মেলে। কিন্তু শান্তি কষ্ট করে পেতে হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতেই মহান আল্লাহ নবী (স.) কে প্রেরণ করে। শান্তির জন্য অনেক ত্যাগ দরকার।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজ আতœবান্ধব নয়। একারণে চারিদিকে অশান্তি। সমাজে হানাহানি বেড়েছে। সমাজে রাসুল (স.) আদর্শের উপস্থিতি নেই। রাসুলের নসিহত আমরা মেনে চলিনা। রাসুল (স.) সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই দ্বীন কায়েম করেছেন। বর্তমানে অশান্তির জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। শান্তির জন্য মতভেদ ভুলে সকল মুসলমানকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। রাসুলের নীতি মেনে চলতে হবে।

সেমিনার পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠন সীরাতুন্নবী (স.) উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক ফরিদুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন সমন্বয়ক এএএম সিরাজুল ইসলাম। দেশী সাংস্কৃতিক সংসদের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সীরাত উপলক্ষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেয়া হয়। সন্ধ্যায় অনির্বাণ ও প্রবাল শিল্পীগোষ্ঠি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হামদ/নাত গজল সন্ধ্যা ‘সিরাজাম মুনিরা’ পরিবেশন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘এখন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষই বিএনপিকে ভোট দিবে’

It's only fair to share...000যমুনা টিভি :  এখন নিরপেক্ষ নির্বাচন হল ৮০ ভাগ মানুষই বিএনপিকে ...