Home » কক্সবাজার » অবশেষে মুসলিম রোহিঙ্গা হত্যার কথা স্বীকার করল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

অবশেষে মুসলিম রোহিঙ্গা হত্যার কথা স্বীকার করল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক ::
রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসা মিয়ানমার সেনাবাহিনী কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায় জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

“গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।”

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরল এই স্বীকৃতি এলো।
গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা, পরে চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘ। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে।

সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরা। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

রোহিঙ্গাদের ওপর এই নিষ্ঠুরতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা-প্রতিবাদের মধ্যে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের সৈন্যরা নৃশসংশতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছুই করেনি।

স্যাটেলাইট চিত্রে রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম স্যাটেলাইট চিত্রে রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের রাজধানী সিতভি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ঊপকূলীয় ইন দীন গ্রামে একটি গণকবরে ১০ জনের মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানায়। এরপর ঘটনা তদন্তে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করে সেনাবাহিনী।
বুধবার সেনাবাহিনী বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই ১০ জনকে হত্যা করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে এবং এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে গেলে ‘২০০ বাঙালি সন্ত্রাসী লাঠি ও তরবারি নিয়ে হামলা চালায়’। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়লে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ১০ জন ধরা পড়ে।

“আইন অনুযায়ী আটকদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল। কিন্তু জঙ্গিরা একের পর এক হামলা চালাচ্ছিল এবং তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর দুটি যান ধ্বংস করেছিল।

“পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১০ বাঙালি সন্ত্রাসীকে থানায় হস্তান্তরের কোনো পরিস্থিতি ছিল না এবং তাদের মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,” তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেছে সেনাবাহিনী।

স্যাটেলাইট চিত্রে রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম স্যাটেলাইট চিত্রে রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, জঙ্গি হামলায় স্বজন হারানো ক্ষুব্ধ রাখাইন বৌদ্ধ গ্রামবাসী আটকদের মেরে ফেলতে চেয়েছিল। গ্রামের এক পাশে একটি গণকবরে ঢুকিয়ে তাদের ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তারপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গুলি করে মেরে ফেলে।
“আইন লংঘনে ওই গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়া ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করা সেনা সদস্য এবং ওই অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয়ে উইনের নেতৃত্বে এই তদন্ত হয়। নভেম্বরে সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, তার নেতৃত্বও দিয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্টগ্রামে ওসি জসিমসহ ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

It's only fair to share...27000ডেস্ক নিউজ: ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত ...