Home » পার্বত্য জেলা » বান্দরবানে পাহাড় কাটা থামছে না

বান্দরবানে পাহাড় কাটা থামছে না

It's only fair to share...Share on Facebook207Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

বান্দরবান প্রতিনিধি ::

প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ধসে বিপুল সংখ্যক মানুষের অকালে প্রাণহানি ঘটার পরও প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা থামছে না বান্দরবানে। দিবারাতে স্কেভেটর ব্যবহার করে কর্তিত পাহাড়ের মাটি বিক্রি হচ্ছে এবং মাটি সরাতে ব্যবহার হচ্ছে ট্রাক। বান্দরবান পৌর এলাকার কালাঘাটান বাহাদুর নগর এবং আশেপাশের ৪টি স্থানে বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলায় আগামী বর্ষায় এসব এলাকায় এক ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও শংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয প্রবীণ ব্যক্তিরা। গত ২মাস ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে অবাধে পাহাড় কর্তনযজ্ঞ দিব্যি চলে আসলেও এসব রোধে দেখার নেই কেউই।

গুরুতর অভিযোগ রয়েছে– স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকারি দলের কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় পাহাড় ও মাটি খেকোর দল।

জানা গেছে, বুধবার সকালেও শহরের কালাঘাটায় বাহাদুর নগরে পৌরসভার উন্নয়ন কাজের নাম ভাঙ্গিয়ে স্কেভেটর দিয়ে বিশাল একটি পাহাড় কাটা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পাহাড় কেটে ৫টি ট্রাক দিয়ে পাহাড়ের মাটি জলাশয় এবং নীচু জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতি ট্রাক মাটি বহনের জন্যে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা করে আদায় করছে মাটি বিক্রেতারা। অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসন বা পুলিশ এখনও কোন আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সরকারি বিভাগের নির্বিকারতার সুযোগে কথিত উন্নয়নের নামে পাহাড় খেকোরা ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। সেই সাথে পুরো এলাকায় জনবসতির ক্ষেত্রে জীবনের ঝূঁকিও বাড়ছে। বাহাদুর নগর এলাকা ছাড়াও চারিদিকে পাহাড় কেটে জায়গা সমান করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকারি দলের নামধারী নেতারা। কালাঘাটা নতুন ব্রিজ এবং বড়ুয়ারটেক এলাকাতেও প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা হচ্ছে বিপুল শ্রমিক দিয়ে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, আওয়ামীলীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় জনৈক টিটু বড়ুয়াসহ কয়েকজন পাহাঢ় খেকো বাহাদুর নগরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর পাহাড় কেটে প্রকাশ্যেই মাটি বিক্রি করছে।

সরকারি তথ্য মতে গতবছরও বান্দরবানের কালাঘাটায় পাহাড় ধসে ৬ জনসহ জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময় প্রশাসন জেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও রহস্যজনকভাবে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত টিটু বড়ুয়া স্বীকার করে জানান, উন্নয়ন কাজের জন্য পৌরসভার কর্মকর্থাদের অনুমতি নিয়ে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ের মাটি বিক্রি করে কিছু অর্থ রোজগার করা যায় বলেও দাবি করেন।

বান্দরবান পৌর সচিব মো.তৌহিদুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকার কালাঘাটায় বাহাদুর নগরে রাস্তা তৈরির উন্নয়নের জন্য কিছুস্থানে পাহাড় কাটা হয়েছে, অন্যস্থানে পাহাড় কাটার ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। এ ব্যাপারে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড় কাটার কোনো অনুমতি নেই। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মাদকের গডফাদার, পৃষ্ঠপোষক কারবারিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

It's only fair to share...20700নিউজ ডেস্ক :: দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে সরকার নানা ধরনের ...