Home » দেশ-বিদেশ » রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, চীনের বাধায় বাংলাদেশ হতাশ

রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, চীনের বাধায় বাংলাদেশ হতাশ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page
নিউজ ডেস্ক ::

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে, প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার জেনেভায় কাউন্সিলের ২৭তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের আনা প্রস্তাবটি ৩৩-৩ ভোটে পাস হয়েছে। তবে চীন, ফিলিপাইন ও পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয় নি। ভারত, জাপানসহ ৯টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
বাংলাদেশের অনুরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল গতকাল ‘মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনটি ডেকেছিল। অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি প্রস্তাবের খসড়া দেয়।

বিশেষ অধিবেশনের প্রথম পর্বে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার–বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও জেনেভায় জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি তিন লিন। দ্বিতীয় পর্বে ২৯টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্তত ১২টি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা দেন। বক্তৃতা পর্ব শেষে প্রস্তাবটি নিয়ে সংক্ষেপে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা কথা বলেন।

এরপর মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি তিন লিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবার জন্য সুরক্ষা অপরিহার্য, সেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবটি বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে, তা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জেনেভায় চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি মা ঝাওজু বলেন, দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়াই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। এ সমস্যা সমাধানে চীনের দেওয়া তিন ধাপের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশ এ নিয়ে ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করায় চীন সন্তুষ্ট। এখন এটির বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে চীন মনে করে, কাউন্সিলে প্রস্তাব সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না, বরং পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাই চীন প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। চীন বিপক্ষে ভোট দেবে।

জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চন্দর বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহযোগিতা করে আসছে ভারত। দেশ দুটির মধ্যে ২৩ নভেম্বর যে চুক্তি হয়েছে তা যৌক্তিক উপায়ে, আস্থা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে ভারত আশা করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না বলে ভোটাভুটি থেকে ভারত বিরত থাকবে।

পরে অধিবেশনের সভাপতি ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জোয়াকুইন আলেক্সান্ডার মাজা মার্তেল্লির উপস্থিত সদস্যদের ভোটে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। ভোটের ফলাফলে তিনি জানান, প্রস্তাবের পক্ষে ৩৩টি ও বিপক্ষে ৩টি দেশ ভোট দিয়েছে। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে ৯টি দেশ।

এর আগে ২০০৭ সালের অক্টোবরে কাউন্সিলের পঞ্চম বিশেষ অধিবেশনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল।

ভোটের ফলাফলের পর জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান অধিবেশনে বলেন, মানবিক ও মানবাধিকার সুরক্ষার এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ায় বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে। কারণ প্রস্তাবটি নৈর্ব্যক্তিকভাবে নেয়া হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল।

অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার–বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নৃশংসতার জন্য গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিচার হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কক্সবাজারে বার্মিজ লেখা প্যাকেটে ভেজাল ও নিম্নমানের আচারে প্রতারিত পর্যটক

It's only fair to share...000কক্সবাজার প্রতিনিধি :: খাওয়ার অযোগ্য পচা বরই, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্যামিকেল, ...