Home » টেকনাফ » টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ১৬টি মেডিকেল টিম

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ১৬টি মেডিকেল টিম

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ :Teknaf-pic-26.9.2017-4_1
টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ১৬টি মেডিকেল টিম রাতদিন কাজ করছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুমন বড়–য়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এবং গ্রামে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা প্রয়োজনের তুলনায় যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন বলে আশ্রিত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন। গরম এবং হালকা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকলেও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবার কারণে রোগ বালাই তেমনটি দেখা যাচ্ছেনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের সেবা দানের লক্ষ্যে টেকনাফে ফিল্ড পর্যায়ে সরকারী উদ্যোগে ৫টি, বেসরকারী উদ্যোগে ১১টি মেডিকেল টীম কাজ করছে। আইন শৃংখলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সাংগঠনিক ছাড়াও ১৩টি কমিউিনিটি ক্লিনিক, ২টি সাব সেন্টার, ২টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৫০ শয্যার উপজেলা হেলথ সেন্টার, মুচনী এবং লেদা ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের আওতায় ২৯ জন ডাক্তার, ২৭ জন নার্স, ৮ জন স্যাকমো নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া বেসরকারী উদ্যোগে পরিচালিত মেডিকেল টীমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী রোহিঙ্গাদের সেবায় কাজ করছেন।
ক্যাম্প এবং গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সেবায় সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে দিবারাত্রি মেডিকেল ক্যাম্প চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে নিজস্ব ডাক্তার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে মেডিকেল ক্যাম্প। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সেবায় টীম গঠন করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ এবং কাউন্সিলিং করতে দেখা গেছে। এছাড়া এমএসএফ, আইওএম, ইউনিসেফ, গণস্বাস্থ্য, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিদিন মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক পর্যন্ত সব ধরণের রোগী সেবা নিচ্ছেন। জটিল এবং কঠিন রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গারা এসব মেডিকেল ক্যাম্প থেকে সেবা নিয়ে সুস্থতা লাভ করছেন বলে জানা গেছে।
টেকনাফের রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা ৮০ বছরের বৃদ্ধা শামারুপ বলেন ‘দেশে থাকাকালীন চিকিৎসার অভাবে বেশী কষ্টে ছিলাম। রইক্ষ্যং ক্যাম্পে এসে চিকিৎসা নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুস্থতা লাভ করেছি। বর্তমানে আরামে আছি’।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্রুতিপূর্ণ চাকমা বলেন ‘মেডিকেল টীম গঠন করে রোহিঙ্গাদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে নিয়মিত কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুমন বড়–য়া বলেন ‘সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সেবায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্যাম্প গুলোর মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারী পুরুষ এবং শিশুদের জটিল-কঠিন রোগের চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অবাধে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারীভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা থাকার পরও অসচেতনতার কারণে অনেকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসছেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় পুজা মন্ডপ পরির্দশনে পুলিশ সুপার, দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হউক

It's only fair to share...26800এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :: শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পুজা মন্ডপ পরির্দশন করেছেন কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা হিন্দুপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় হরিমন্দির, পৌরসভার৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী কালি মন্দির ও উপজেলার ডুলাহাজারাসহ বিভিন্ন মন্ডপে পুজার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরির্দশনকালে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজার অনুষ্টানকে ঘিরে নিরাপদ ও সুষ্ট পরিবেশে শতভাগ নিরাপত্তার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসাধারণ উৎসব পালন করতে পারে সে জন্যপুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক একটি বাংলাদেশ বির্নিমান গড়ে তুলতে। দেবী দূর্গার আগমনে অশুভ ও অপশক্তি যা আছে তা দূর হবে এদেশ থেকে এ হোক সকলের প্রত্যাশা। এ সময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো: মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিনচৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি টিটু বসাক, সাধারণ সম্পাদক নিলুৎপল দাশ নিলু, উপজেলাপূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তপন কান্তি সুশীল, সদস্য সুধীর দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ, চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক অসীম কান্তি দেরুবেল প্রমুখ। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুজা মন্ডপ, ও মন্দির কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।