Home » কলাম » নৌকা-ধানের শীষেই ভরসা জোট শরিকদের

নৌকা-ধানের শীষেই ভরসা জোট শরিকদের

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

elekঅনলাইন ডেস্ক :::

দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটের ছোট ছোট শরিক দলের নেতারা চাচ্ছেন, যে করেই হোক সামনের ভোটে নৌকায় চড়ে কিংবা ধানের শীষ হাতে নিয়ে নির্বাচনে লড়তে। এই চাওয়ার পেছনের কারণটি হলো, এই দুই প্রতীকে লড়লে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়। কিন্তু নিজেদের প্রতীকে লড়লে জেতা তো দূরের কথা, জামানত হারানোরও ভয় আছে। এ অবস্থায় নিজ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দু-একটি আসনে তারা নামকাওয়াস্তে প্রার্থী করার কথা ভাবছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তারা নৌকা ও ধানের শীষ পাবেন কিনা তা নিয়ে নিজেরাই শঙ্কিত। জানা গেছে, দুটি জোটের শরিকদেরই কর্মী ও সমর্থকের অভাব রয়েছে। তার ওপর রয়েছে জনসমর্থন ও ভোটার সংকট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধিত হওয়া সত্ত্বেও এসব দলের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকই ভরসা। দুর্বল হলেও এরাই নির্বাচনী আসন নিয়ে দর কষাকষিতে ব্যস্ত এখন। কেউ দাবি করছে ১০০টি আসন। আবার কেউ দাবি করছে ১০টি থেকে শুরু করে ৫০টি আসন পর্যন্ত। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এদেরকে ৪০টি আসন ছাড় দিলেও এবার তাদেরকেই ১০০টি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বিগত নির্বাচনে ৩৫টি আসনে ছাড় দেয় এবং শুধু জাতীয় পার্টি ছাড়া জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারাসহ অন্য সবাই নৌকা মার্কায় নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল ছাড়া অন্য সবাই নৌকাতেই মনোনয়ন নিতে চান। কারণ নৌকা ছাড়া তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয়। তবে ইসির বাধ্যবাধকতার কারণে নিজের দলের নিবন্ধন ঠিক রাখতে নামকাওয়াস্তে দু-একজন প্রার্থীকে দুই একটি আসনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই অবস্থা বিএনপি জোটেরও। জামায়াতে ইসলামী আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপি ছাড়া আর সবাই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষেধাজ্ঞার পথে। আদালতে ঝুলছে তাদের এই নিষেধাজ্ঞা মামলা। ফলে এতদিন নিজস্ব প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচন করে এলেও এবার তাদের প্রার্থীদেরও নির্বাচন করতে হলে ধানের শীষ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। তবে অন্য অনেক শরিক দলের চেয়ে মহাজোটের জাতীয় পার্টি আর ২০-দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত ও কাঠামো শক্তিশালী এবং জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই তারা আসন নিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ১০০ আসন করে প্রাথমিকভাবে দল দুটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে দাবি করছে বলে জানা গেছে। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন, এবার তারা কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব করেই নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন। অন্যদিকে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। জোটের হিসাব ভিন্ন। তবে যারা যে আসন থেকে পাস করে আসতে পারবেন তাদেরকেই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

মহাজোট : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় চড়ে এমপি হয়েছেন জোটের ১০ জন। ভোট করে সুবিধা পাওয়ায় এবারও নৌকা প্রতীক চায় শরিক দলের মূল নেতারা। দলের নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতে দলের প্রতীকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ীরা হলেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন (ঢাকা-৮), সাধারণ সম্পাদক ফজলে হাসান বাদশাহ (রাজশাহী-২), শেখ হাফিজুর রহমান (নড়াইল-২), মোস্তফা লুত্ফুন্নেছা (সাতক্ষীরা-১), জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু (কুষ্টিয়া-২), জায়েদুল কবির (নরসিংদী-২), শিরিন আখতার (ফেনী-১), মাইনুদ্দীন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮) এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী (চট্টগ্রাম-২) ও এম এ আউয়াল (লক্ষ্মীপুর-২)।

দলীয় সূত্রমতে, শরিক দলগুলো গত নির্বাচনে ৬০ আসন চেয়ে পেয়েছে মাত্র ১৮টি। এবার ১০০ আসনের প্রস্তুতি নিলেও তাদের কয়টি দেওয়া হবে তা জানার জন্য নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আগামী নির্বাচনে দলীয় পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের দলে ছয়জন এমপির মধ্যে চারজন নৌকা প্রতীক নিয়ে গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিল। আর দুজন ছিলেন দলের প্রতীক হাতুড়ি নিয়ে। আগামী নির্বাচনে কোন প্রতীকে নির্বাচন করব তা এখনো আলোচনা হয়নি। যখন নির্বাচন নিয়ে জোটের সঙ্গে বৈঠক করব সে সময়ই সিদ্ধান্ত হবে।

দলের জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভাঙন দেখা দেয়। জাসদ দুই অংশ প্রতীক নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে চেয়ে আছে। দশম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, মাঈনুদ্দিন খান বাদল, শিরিন আক্তার নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে নির্বাচনে লড়ে জয়ী হন নাজমুল হক প্রধান ও রেজাউল করিম তানসেন। এ ছাড়া নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন নরসিংদী জেলার জাসদ নেতা জাহেদুল করিম। জাসদ (একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার কাছে নির্বাচনী প্রস্তুতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রতীক নিয়ে একটু টেকনিক্যাল সমস্যার ভিতরে আছি। এ সমস্যা দূর হলেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করব। জোটের ভিতরে যে প্রতীক স্ট্রং (শক্তিশালী) সেটাতেই নির্বাচন করব। কিন্তু এটা জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা আমাদের সে প্রতীক দেবে কিনা?  গত নির্বাচনে তিন আসনে মনোনয়ন চেয়ে একটিও পায়নি ন্যাপ। পরে সংরক্ষিত আসনে ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা মোজাফফর আহমদের স্ত্রী আমেনা আহমেদকে এমপি করা হয়। এবার নির্বাচনের প্রস্তুতি কী জানতে চাইলে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত বছর আমরা দলের প্রতীক কুঁড়েঘর নিয়ে নির্বাচন করেছি। এবারও তাই করব। তবে জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত হলে নৌকা প্রতীক নিয়েও করা যেতে পারে।

২০-দলীয় জোট : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিমধ্যেই বলেছেন, বিএনপি সব সময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সারা দেশে ৩০০ আসনের বিপরীতে তার দলে এবার ৯০০ আগ্রহী প্রার্থী রয়েছেন। যাদের একজনের চেয়ে আরেকজন কোনো অংশেই কম নয়। সবাই যোগ্য। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে নিয়েই অংশ নিতে চায় বিএনপি। জোটের পরিধি বৃদ্ধিসহ ব্যাপক ভিত্তিতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চায় দলটি। বিগত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন চারদলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন দল বিএনপি ৪০টি আসনে ছাড় দিয়েছিল শরিক দলগুলোকে। এরমধ্যে ৩৩টি আসনে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেয়। সেসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া আন্দালিব রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিকে (বিজেপি) দিয়েছিল ভোলার দুটি আসন। আর ইসলামী ঐক্যজোটকে দিয়েছিল চারটি আসন। এ ছাড়া সিলেটে নেজামী ইসলামীকে দিয়েছিল আরও একটি আসন।   তবে এবার ৩০০ আসনের মধ্যে মোট ১০০টি আসনে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের প্রার্থী ছাড়াও জোটের বাইরেও কমপক্ষে আরও ৫০টি আসনে মনোনয়ন দিতে পারে বিএনপি। তার মধ্যে অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারাকে দুই থেকে তিনটি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়াও ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ আরও বেশ কটি দল ও বিশিষ্ট কয়েকজন নাগরিককে মনোনয়ন প্রদানের চিন্তা করছে বিএনপি। অর্থাৎ জোটের শরিকসহ সমমনা দলের ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বমোট ১০০টি আসনে ছাড় দিতে পারে প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর একজন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ দল বলা যাবে না। তবে শেষ পর্যন্ত অবস্থা বুঝেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঢাকা-১৫ আসন থেকে বিএনপি জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান ধানের শীষ মার্কায় ২০ দলের প্রার্থী হতে চান। তিনি বলেন, এবার ইনশা-আল্লাহ রাজধানীতে ২০ দলের ভোট বিপ্লব হবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...