Home » Uncategorized » কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে বিষোদগারকারী খাদ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করুন : কক্সবাজার হেফাজত

কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে বিষোদগারকারী খাদ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করুন : কক্সবাজার হেফাজত

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :hefajot-islam
ইসলামী জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম কর্তৃক চরম বিষোদগারের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপনপূর্বক অবিলম্বে তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের জোর দাবী জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা সভাপতি ও জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলূম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আবুল হাসান, সহ-সভাপতি মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, মাওলানা নুরুল আলম আল মামুন, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, রামু উপজেলা সভাপতি মাওলানা আমান উল্লাহ সিকদার, সহ-সভাপতি মাওলানা আ.হ.ম নুরুল কবির হিলালী, চকরিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি এনামুল হক, কক্সবাজার শহর সভাপতি মাওলানা হাফেজ মুবিনুল হক, সহ-সভাপতি মাওলানা মনজুরে ইলাহী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সায়েম হোসেন চৌধুরী, জেলা কওমী মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা হাফেজ কামাল আহমদ, ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবদুচ্ছালাম কুদছী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাজী এরশাদুল্লাহ, শহর নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা নুরুল হক চকোরী, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা সমন্বয়কারী হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, যুগ্ম সমন্বয়কারী মাওলানা হাফেজ শওকত আলী প্রমূখ।

এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কওমী মাদ্রাসাসমূহ আবহমানকাল ধরে পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ্র সঠিক তা’লীম ও ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের যথাযথ চর্চার মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর প্রকৃত অনুসারী, দেশপ্রেমিক আদর্শ নাগরিক গড়ার মহান খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাধারার গৌরবোজ্জ্বল অবদান সর্বজন স্বীকৃত। এমনই শান্তি-সম্প্রীতির প্রতীক, ইসলামী জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র কওমী মাদ্রাসাকে জঙ্গি আস্তানা আখ্যা দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম পক্ষান্তরে ইসলামের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। কামরুল ইসলামের মত ইসলাম বিদ্বেষীরা মূলতঃ সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে এমন অবান্তর বক্তব্যদান ও মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে। ঘাপটি মেরে থাকা এসব ধর্মদ্রোহীরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলে আমরা মনে করি। এসব ধর্মদ্রোহীদের ব্যাপারে সরকারকে হুশিয়ার থাকতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদমাধ্যম সূত্রে আমরা জেনেছি, চট্টগ্রামে এক মানবাধিকার সংগঠনের সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম “ব্যাঙের ছাতার মত কওমী মাদ্রাসা গড়ে উঠছে” বলে ধৃষ্ঠতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার মনে রাখা উচিত ব্যাঙের ছাতা নয়; বরং চিরন্তন মুক্তিকামী মানুষের ঈমানের ছাতা হিসেবেই এদেশে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাধারার বিকাশ ঘটছে। কওমী মাদ্রাসা সমূহের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা এদেশের আদর্শ ও শান্তিপ্রিয় নাগরিক। কওমী মাদ্রাসা সমূহের সাথে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নাড়ি ও আত্মার সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই যারা কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে বিষোদগার করবে তারাই প্রকৃত ব্যাঙের ছাতার মত মুলোৎপাটিত হয়ে বিলীন হয়ে যাবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, খাদ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন- কওমী মাদ্রাসাগুলো কেন হচ্ছে, কারা করছে? এর উত্তরে আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে ইলমে ওহীর প্রকৃত শিক্ষা কেন্দ্র। শান্তিকামী আদর্শ নাগরিক ও শান্তিময় সমাজ গড়তে ইলমে ওহীর শিক্ষাধারার বিকল্প নেই। তাই দেশ ও জাতির অনিবার্য প্রয়োজনে কওমী মাদ্রাসা গড়ে উঠছে। আর জাতির আদর্শিক পথপ্রদর্শকের ভূমিকাপালনকারী হক্কানী ওলামা-মশায়েখসহ প্রকৃত দ্বীন ও দেশপ্রেমিক নাগরিকরাই এসব দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, খাদ্যমন্ত্রী কওমী মাদ্রাসা সমূহের মধ্যে জঙ্গি আস্তানা চিহ্নিত করার আহ্বান জানাবার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছেন। আমরা তাকে দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে জানাতে চাই, কওমী মাদ্রাসায় কোন সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও দুর্বৃত্ত অতীতেও ছিলনা এখনো নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে দ্বীনি শিক্ষা ও চারিত্রিক দীক্ষা এক সাথে চলে। ফলে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত কোন কওমী মাদ্রাসায় ছাত্ররাজনীতি, দলবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাম্পাসে আধিপত্য ও হল দখল নিয়ে এক ফোটা রক্তও ঝরেনি। এ মহাসত্য উন্মোচন করে গত ১৭ডিসেম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-এ “জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত” শীর্ষক আলোচনা সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জনাব এ.কে.এম শহীদুল হক বলেন, “দেশের কওমী মাদ্রাসায় কোন জঙ্গি তৈরি হয় না।” এমতাবস্থায়, কওমী মাদ্রাসা সমূহকে জঙ্গি আস্তানার অপবাদ দিয়ে কামরুল সাহেবরা দেশকে সাম্রাজ্যবাদীদের অভয়ারণ্য বানাবার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। কামরুল সাহেবদের মনে রাখা উচিত এদেশের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠী আদর্শ নাগরিক গড়ার অবিসংবাদিত প্রতিষ্ঠান কওমী মাদ্রাসা সমূহের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন না; বরং কওমী মাদ্রাসা বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী অব্যাহত রাখবেন। সেই সাথে দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরী কওমী মাদ্রাসার আরো ব্যাপক প্রসার ঘটাতে আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকেরা সার্বক্ষণিক সোচ্চার ও অগ্রণি থাকবেন।

বিবৃতিদাতারা অবিলম্বে কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে বিষোদগারকারী খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ করার জোর দাবী জানিয়ে বলেন, এদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ঈমান-আমল চর্চা ও অনুশীলন কেন্দ্র কওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কামরুল ইসলাম মন্ত্রীসভায় থাকার নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার হারিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চবিতে ফক্সি পরীক্ষায় ভর্তি, মহেশখালীর শিক্ষার্থী আটক

It's only fair to share...32100চবি সংবাদদাতা :: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির অভিযোগে মোহাব্বত ...