Home » টেকনাফ » প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের কান্না

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের কান্না

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

mail.google.comশাহেদ ইমরান মিজান, সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে:

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত নয়নাভিরাম এই দ্বীপটি ‘স্বপ্নের দ্বীপ’ নামে খ্যাত। এই দ্বীপে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন। ঢেউ তোলা জীবন্ত পাথুরে সৈকত, চোখ জুড়ানো নারিকেল বীথি, খেয়াবন, জীবন্ত মাছের বারবি-কিউ, পালতোলা নৌকাসহ হরেক রকম প্রাণজুড়ানো পর্যটনের নৈসর্গিক উপসঙ্গ একাকার এই দ্বীপে। সাথে আছে ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ। মানব বসতিহীন এই দ্বীপ। তবুও লোকে লোকারণ্য খেয়াবনের ওই দ্বীপটি। সব মিলিয়ে প্রাণজুড়িয়ে দেয়া যুগলবন্দী সেন্টমার্টিন-ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ। তাই দিনে দিনে সমৃদ্ধি পাচ্ছে পর্যটনের অপূর্ব সমাহার নিয়ে সাগরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপটি। পর্যটকসহ দেশবিদেশের মানুষের চোখে সেন্টমার্টিন নিয়ে এটা স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা কেমন, তারা কেমন আছেন কেমন থাকেন। সর্বোপরি তাদের চলমান জীবন কেমন এবং কেমন হতে যাচ্ছে আগামীর জীবনচিত্র? এইসব দৃশ্যগুলো কারও চোখে পড়ে না। নেই কারও মনোদর্পণেও। সরকার, প্রশাসন, উচ্চ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি কারও নজর নেই সেন্টমার্টিনের ৯ হাজার মানুষের উপর- এমন অভিযোগ এই অকূল দ্বীপবাসীর। সম্প্রতি এই দ্বীপ ঘুরে এসেছেন এই প্রতিবেদক। এই পরিভ্রমণে দ্বীপের চাকচিক্যের আড়ালে থাকা অগণিত সমস্যা, দ্বীপবাসীর চাওয়া ও পাওয়া এবং না পাওয়া ও আর্তনাদের চিত্র তুলে এনেছেন প্রতিবেদক।

12524076_924940854292019_8339793344415072291_nইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, সেন্টমার্টিন একটি ছোট দ্বীপ যা, বঙ্গপসাগরের উওর-পূর্ব অংশে এবং কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আরবের কিছু নাবিক ২৫০ বৎসর পূর্বে এটি আবিস্কার করেন। তারা এটিকে “জাজিরা” নামকরণ করেন। ১৮৯২ সালে ১৫ জন মানুষ এই দ্বীপে বসতি শুরু করেন। বৃটিশের ওই সময়কালে এটিকে পুনরায় ‘সেন্টমার্টিন’ দ্বীপ নামে নামকরণ করা হয়। দ্বীপটির স্থানীয় নাম আবার নারিকেল জিনজিরা। এর আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০০৬ সালের হিসেব অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৭হাজার এবং বর্তমানে এ সংখ্যা ৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৮৭৫ জন। সেন্টমার্টিনের সংযোযিত অংশ ছেঁড়াদিয়া। প্রধান পেশা মাছ ধরা হলেও বতর্মানে পর্যটনকে কেন্দ্র করে আরো নানা পেশার সাথে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে এই দ্বীপের বাসিন্দারা।

দ্বীপের নানা স্থরের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যটন সমৃদ্ধ হলেও এই দ্বীপের লোকজন নানা সমস্যা জর্জরিত। যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপত্তাসহ অনেক সমস্যার সন্ধান মিলেছে তাদের সাথে কথা বলে। একই সাথে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় পেটুয়া শ্রেণির লোকজনের দৌরাত্ম্যও দ্বীপবাসীর জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। দিনে দিনে এর চিত্র ভয়াবহ হয়ে উঠছে আরো।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেন্টমার্টিনবাসী প্রধান সমস্যা যোগাযোগ। যোগাযোগ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতার দরুণ সব ক্ষেত্রের কার্যক্রম থমকে আছে। মূল ভূখন্ড টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব সময় তিন ঘন্টা। তা কিন্তু জাহাজে। স্থানীয় কাঠের বোটে হলে চার ঘন্টার অধিক লাগে। এতে করে যেকোনো জরুরী কাজে টেকনাফ ও জেলা সদর কক্সবাজার আসতে গেলে তা কখনো সম্ভব হয় না। স্পীড বোট থাকলেও শুষ্ক মৌসুম ছাড়া তা চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর ফলে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয় না। যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরো একটি বড় সমস্যার কথা উঠে এসেছে। তা হলো মোটা অংকের বোট ও জাহাড় ভাড়া। তার সাথে রয়েছে দু’ঘাটে চাঁদাবাজি। এতে ৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। কোন পণ্য সেন্টমার্টিনের নিতে গেলে কেনা মূল্যের কাছাকাছি টোল দিতে হয় বলে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নিয়ে সাধারণ লোকজনের ‘বাড়াবাড়ি’ করার কোন সুযোগ নেই। তা করলে ঘাটওয়ালার প্রভাবশালীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এই রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে। যার ফলে দিগুণ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হয় দ্বীপের লোকজনকে।

দ্বীপের লোকজনের অভিযোগ, শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের যোগাযোগ অনেক সহজ ও কাছের। শাহপরীর দ্বীপের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা করা হলে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা তা হতে দিচ্ছে না। টেকনাফ দিয়ে ঘাট বানিয়ে তারা সেন্টমার্টিনবাসীকে একদিকে চরম কষ্টে দিচ্ছে অন্যদিকে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর সেন্টমার্টিনের। মূল সড়ক থাকলেও তা পূণার্ঙ্গ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপের অর্ধেক আয়তনের সড়ক অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেখানকার লোকজনকে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যোগাযোগ ও চিকিৎসা সংকট একই সূত্রে গেঁথে গেছে। বিশেষ করে মরণাপ্ন রোগীদের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক হয়ে পড়ে। দ্বীপে একটি মাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তাতে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের পদও রয়েছে। কিন্তু পদ থাকলেও স্মরণকাল পর্যন্ত সেখানে পা পড়েনি সেই এমবিবিএস চিকিৎসকের। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ছাগলের খোয়াড় বলে অবহিত করেন দ্বীপবাসী। ফলে একদিকে যোগাযোগ অন্যদিকে চিকিৎসক সংকট-দু-ই মিলিয়ে রোগ-শোকে মারাত্মক সমস্যায় পড়ে যান এ দ্বীপের লোকজন। সময় মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর কথা জানা গেছে।

সেন্টমার্টিনবাসীর অভিযোগ, কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেবায় নিয়োজিত কোস্টগার্ডও। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনের যেকোন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নেয়ার ক্ষেত্রে লাগে অনুমতি। অনুমতি নেয়ার পরও রয়েছে কোস্টগার্ডের হয়রানি। কোস্টগার্ড তল্লাশীর নামে করছে এই হয়রানি। সেই সাথে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। একই ভাবে জেলেদেরকেও হয়রানি করছে-এমন অভিযোগ অনেক পাওয়া গেছে। এখানকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- প্রধান মৌলিক খাদ্য পণ্য নেয়ার ক্ষেত্রেও কেন বিজিবির অনুমতি লাগবে?

নিরাপত্তা নিয়ে সদা সঙ্কিত সেন্টমার্টিনবাসী। কেননা সাগরে পানি বাড়লেই তা ধেয়ে আসে লোকালয়ে। শুষ্ক মৌসুম ছাড়া বছরের পুরো সময় ঘুর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে থাকে দ্বীপের লোকজন। এই আতঙ্কের কারণ দ্বীপ রক্ষায় নেই কোন বেড়িবাঁধ। তাই সব সময় পুরো দ্বীপ থাকে সাগরের গ্রাসে। তাই ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস আসলে আল্লাহর সহায় ছাড়া কোন উপায় থাকে না বলে জানান লোকজন। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে পুরো দ্বীপ ভেসে গিয়ে অনেক প্রাণহানি হয়েছিল। সেই থেকে দ্বীপটি ক্রমান্বয়ে ভেঙে যাচ্ছে। তারপরও এখন পর্যন্ত কোন রকম বেড়িবাঁধ বরাদ্দ হয়নি এই দ্বীপের। এ নিয়ে দ্বীপের অনেক ক্ষোভ দেখা গেছে।

সেন্টমার্টিনের অনেক সমস্যা মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা অন্যতম। সেন্টমার্টিন আধুনিক একটি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ালেও এখনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি এই দ্বীপে। স্থানীয়ভাবে জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও তা শুধু পর্যটকবাহী কটেজ কেন্দ্রিক। সৌর বিদ্যুতের দেখা মিললেও দরিদ্রতার দরুণ অধিকাংশ মানুষ তার বাইরে রয়ে গেছে। দ্বীপে এক সময় সরকারি উদ্যোগে একটি অস্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও ১৭ বছর ধরে তা বিকল। জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড় হারিকেনের আঘাতে এই বিদ্যুৎ জেনারেটরটি বিকল হলে তা পুন:চালুর উদ্যোগ নেয়নি সরকার। সেই থেকে অন্ধকারে রয়েছে দ্বীপবাসী। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, টেলিভিশন চালনাসহ আধুনিক সব প্রযুক্তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার মানুষ। এমনকি মোবাইল চার্জ নিয়েও মারাত্মক সমস্যা রয়েছে। টাকা দিয়ে জেনারেটরের বিদ্যুতে মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে স্বল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মোবাইল।

মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা। কিন্তু সেন্টমার্টিনে বসবাস করা লোকজন সরকারের শতভাগ শিক্ষার এজেন্ডা বাস্তবায়ন থেকে অনেক দূরে। এমন আধুনিক সময়েও শিক্ষা বঞ্চিত রয়েছে সেন্টমার্টিনের অনেক শিশু। জানা গেছে, ৯ হাজার মানুষের একটি ইউনিয়নে রয়েছে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাতেও রয়েছে চরম শিক্ষক সংকট। সেন্টমার্টিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে এই বিদ্যালয়ে ৫০২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ২জন শিক্ষক। বেসরকারি ভাবে আরো দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও তাতেও নানা সংকট। ফলে দ্বীপের অনেক শিশু এখনো বিদ্যালয়ে যায় না। এতে নিরক্ষরতায় ধুকে যাচ্ছে অনেক মানুষ। মূলত প্রাথমিক বিদ্যালয় সংকটের কারণেই শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন।

পরিবেশ রক্ষার বলী হয়ে সেন্টমার্টিনবাসী আরেক অধিকার থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত রয়েছে। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে রড, সিমেন্টসহ আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী নেয়ার অনুমতি নেই। এতে করে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় বাড়ি করতে পারছে না। তবে অবাক হলে সত্য প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না ‘উদ্ভট’ এই নিয়ম। সাধারণ লোকজন না পারলেও প্রভাবশালীরা ঠিকই রড-সিমেন্টের বাড়ি করছে। একইভাবে বহুতল ভবনের নির্মাণের নিয়ম না থাকলেও প্রভাবশালীরা বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। স্থানীয়দের বাধা দিলেও বহিরাগত প্রভাবশালীদের বাধা দেয় না পরিবেশ অধিদপ্তর- এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দ্বীপবাসী।

সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্য সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে তথ্য-প্রযুক্তির সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু সেন্টমার্টিনের চিত্র ভিন্ন। সেখানে তথ্য সেবা কেন্দ্র নেই তা নয়। রয়েছে কিন্তু তা কাগজে কলমে। স্থানীয় অনেক সচেতন লোকজন অভিযোগ করেছেন, তারা জানেন দেশের অন্যান্য ইউনিয়নের মতো সেন্টমার্টিনের জন্য একটি তথ্য সেবা কেন্দ্র বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু তারা আদৌ বাস্তবে তা দেখতে পাননি। যার ফলে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত দ্বীপের মানুষ। সামান্য দু’টাকার ফটোকপির জন্য জেনারেটরের সাহায্যে ফটোমেশিনে কম হলেও পঞ্চাশ টাকা গুনতে হচ্ছে। একই সাথে জন্মনিবন্ধনসহ নানা প্রযুক্তির সমস্যা নিয়ে চরম হয়রানি হয়ে যাচ্ছে এখানকার মানুষ। স্থানীয় চেয়ারম্যান নূরুল আমিনকে তার জন্য বার বার বলা হলেও কাজ হয়নি।

সেন্টমার্টিনে কোন ব্যাংকের শাখা নেই। ব্যাংক শাখা না থাকায় দ্বীপের লোকজন কোন ব্যাংক ঋণের সুবিধা পায় না। সে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্থাভাবে অনেক উদ্যোগী মানুষ ব্যবসাপাতি করতে পারেন না।

স্থানীয় সাধারণন লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সেন্টমার্টিন অবহেলিত থাকলেও কোন সরকার এগিয়ে আসেনি। এক্ষেত্রে দোষটা বেশি জনপ্রতিনিধিদের। স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা প্রশাসন, এমনকি কোন সংসদ সদস্যই সেন্টমার্টিন নিয়ে ভাবেননি।

সেন্টমার্টিন আদর্শ সংসদের সভাপতি হেলাল উদ্দীন সাগর বলেন, ‘সেন্টমার্টিন আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্পট। দেশবিদেশের বহু পর্যটক আসছে এখানে। বছরের পর বছর তা বেড়ে চলছে। কিন্তু সেন্টমার্টিন নিয়ে সরকারের সে রকম কোন পরিকল্পনা নেই। অথচ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এখন সময়ের দাবি, সেন্টমার্টিনকে নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করা। তাহলে একদিকে বাঁচবে সেন্টমার্টিনবাসী অন্যদিকে বাড়বে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা।’

সেন্টমার্টিন স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনকে ঘিরে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে কিন্তু সেন্টমার্টিনের উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়নি। এখানে কোন সরকারি দপ্তরের পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। দূর্গম দ্বীপ হওয়ায় এখানে কেউ আসতে চায় না। তার জন্য একটি সমাধান হতে পারে। তা হচ্ছে সরকারি দপ্তরের নিয়োগের ক্ষেত্রে সেন্টমার্টিনের কোটা রাখা। কোটা রাখলে এখনকার লোকজনের পদায়ন এখানেই হবে। যার ফলে সঙ্কট হবে না।’

সেন্টমার্টিন বিডি নিউজ এর সম্পাদক কেফায়েত খাঁন বলেন, ‘সেন্টমার্টিনবাসীদের ক্ষেত্রে যে আচরণ করা হচ্ছে তাতে মনে হয় আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। বিজিবিসহ প্রশাসনের স্থরে স্থরে যে সাঁড়াশি তল্লাশী তাতে তা প্রতীয়মান হয়। এতে সেন্টমার্টিনবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমাদের দাবি, এসব অহেতুক তল্লাশীর নামে হয়রানি বন্ধ করা হোক।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম আরমান বলেন, ‘পর্যটন স্পট হচ্ছে দেশ ও মানুষের সম্পদ। সেন্টমার্টিন হচ্ছে দেশের একটি অন্যতম পর্যটন স্পট। কিন্তু মনে হচ্ছে সরকারের সে রকম ভাবধারা নেই। আমরা রাজনীতি বুঝিনা। আমরা বুঝি দলমত নির্বিশেষে সেন্টমার্টিনের উন্নয়ন।’

সেন্টমার্টিন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি সরকারের লোক। তারপরও আমাকে স্বীকার করতে হচ্ছে সেন্টমার্টিনবাসীর জীবনমান উন্নয়নের তেমন কিছু করা হয়নি। এখন সময় এসেছে পর্যটনের স্বার্থে সেন্টমার্টিনবাসীকে সুরক্ষা দেয়া।’

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, ‘দূর দ্বীপ হিসেবে সেন্টমার্টিনের অনেক সমস্যা আছে। ঘাটে হয়রানি, নৌযান সমস্যা, দ্বীপের নিরাপত্তা। কিন্তু পরিবেশ সংকটাপন্ন হিসেবে অনেক কিছু করার থাকলেও করা যাচ্ছে না। তার জন্য একটা রুটম্যাপ তৈরি দরকার। সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলে সব সমস্যা দূর হবে। আমি সে ব্যাপারে উর্ধ্বতন মহলকে জানাবো।’

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। কিন্তু সেন্টমার্টিন অনেক সমস্যা রয়েছে সেটা আমি জানি। বর্ষাকালে যোগাযোগ সুবিধা, দ্বীপের ভাঙনসহ আরো নানা সমস্যা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সেসব সমস্যাগুলো নিরসন করতে। ক্রমান্বয়ে হয়ে যাবে।’

জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, ‘আমি সেন্টমার্টিন গিয়েছিলাম। সব সমস্যার কথা আমি জেনেছি। সে মোতাবেক সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছিলাম। বিশেষ করে যোগাযোগ, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তারপরও হয়নি। আপনারা লেখেন। লেখার সূত্র ধরে আমি সমাধানের চেষ্টা করবো।’

উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে অবশ্যই স্নানীয় জনগোষ্ঠী ও দ্বীপের উন্নয়ন হবে। সেটা উপর গুরুত্ব দেবো আমরা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মাদকে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে -পুলিশ সুপার

It's only fair to share...000কক্সবাজার সংবাদদাতা :: মাদক ব্যবসাযীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে বলে ...