Home » Uncategorized » বিচারপতি খায়রুলের কারণেই ফ্যাসিবাদ: রিজভী

বিচারপতি খায়রুলের কারণেই ফ্যাসিবাদ: রিজভী

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page
image_147288_0নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ঢাকা: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘৭৫ এর একদলীয় দুঃশাসনের ব্যর্থ বাকশালের ফেলে যাওয়া জুতা পুনরায় আওয়ামী শাসকদলের পায়ে গলিয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক। এটা ছিল আবারো নিষ্ঠুর নির্দয় গণতন্ত্রধ্বংসকারী একদলীয় শাসন কায়েম করার জন্য উচ্চ পর্যায়ের ষড়যন্ত্রের উলঙ্গ রূপ। যেটি আবারো গত পরশু দিন জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন  প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বক্তব্যে। বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী মনে করেছিলেন-তার দণ্ডায়মান দৃপ্ত হুংকারের ভয়ে সেদিনের সংবিধান, গণতন্ত্রবিনাশী বিচারপতি খায়রুল হকের অপকীর্তির বিষয়ে কেউ কথা বলতে সাহস করবে না। কারণ এই অমানবিক নিষ্ঠুর সরকারের হিংস্র আক্রমণে যাদের রক্ত ঝরছে, যারা নির্যাতিত হচ্ছেন, যাদের জীবিকা কেড়ে নেয়া হচ্ছে, যারা বছরের পর বছর কারাগারে বন্দী, যারা অসংখ্য মামলা নিয়ে পরিবার পরিজন ত্যাগ করে এলাকা থেকে বিতাড়িত হচ্ছেন তারা যেন ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রবল প্রতিরোধ করতে না পারে সেজন্যই বিচারপতি খায়রুল হকের মাধ্যমে দ্বিতীয় টার্মের বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করানো হয়েছে পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানে সংযোজনের মাধ্যমে। কিন্তু পাপ, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত কখনোই ঢেকে রাখা যায় না। কোনো না কোনোভাবে তা প্রকাশিত হবেই। এই বিচারপতি খায়রুল হক অবসর গ্রহণের পর তার বিতর্কিত রায়ে লেখা ও স্বাক্ষর করেছেন শুধুমাত্র তার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা নেয়া এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যনের চাকরি লাভের বিনিময়ে। যার ফলে বর্তমান দখলদার ফ্যাসিবাদের বিভৎস আত্মপ্রকাশ ঘটেছে-সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশের মাধ্যমে।”

রিজভী আজ বৃহস্পতিবার পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

বর্তমানে সমষ্টিগত দুঃসময় এদেশে আর কখনো আসেনি। বর্তমানে দেশবাসীর ওপর আওয়ামী লীগের আক্রমণের চরিত্রটা অনেকটাই গণহত্যার মতো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ মাদ্রাসা ছাত্রদের আন্দোলনে আক্রমন চালালে একজন মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয় এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। যা দেশবাসী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিবাসীগণ প্রত্যক্ষ করেছেন। অথচ সরকার এই ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জহির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ ৪৪ জন নেতাকর্মীর নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে নির্দয় নিপীড়ণ নির্যাতন ও গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে, যে ঘটনার সাথে বিএনপি বিন্দুমাত্র জড়িত নয়। অথচ তাদেরকেই সরকারি প্রশাসন মামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে ভয়ানকভাবে হয়রানী করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন বিএনপি নিধন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য তাদের প্রেস কনফারেন্স পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। এটি সরকারের জুলুম ও উৎপীড়নের আরেকটি ভয়াবহ রূপ।”

রিজভী বলেন, “রাজশাহী জেলাধীন তানোর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র ও তানোর থানা জাতীয়তাবাদী যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমানকে গতকাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করার ঘটনা প্রমাণ করে সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বরাবরের মতোই বাঁকা পথে হাঁটা অব্যাহত রেখেছে।”

তিনি অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং তানোর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মিজানুর রহমানের নিঃর্শত মুক্তির দাবি জানান।

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আসলে গুন্ডামির শাসনে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার থাকে না। ভোটারবিহীন সরকারের মখমলের গদি সবসময় টলটলায়মান থাকে। যার কারণে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে তারা বিপজ্জনক মনে করে। এজন্যই নিষ্ঠুর বর্বরতম পরিকল্পনা ও সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ভোটারদের ইচ্ছামতো ভোট প্রদানের গণতান্ত্রিক অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছে। যেহেতু অবৈধ আওয়ামী সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন, তাই আওয়ামী সন্ত্রাসী গুন্ডাবাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা সম্মিলিত সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নই তাদের টিকে থাকার একমাত্র উপায়।”

রিজভী বলেন, “বর্তমান দখলদার সরকারের মহাদুর্নীতি হাতে কলমে প্রমাণিত, বিচারবহির্ভূত মানুষ খুন, বেআইনী গুম ও নিখোঁজের ধারাবাহিক ঘটনা সরকারের প্রতিদিনের কর্তব্যকর্ম। নির্বাচন, ভোট, গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করা হচ্ছে-মাঝে মাঝে সন্ত্রাসী ও প্রহসনের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটু স্টিম ছেড়ে দেয়ার মতো নিজেদের গণতন্ত্রী দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে তারা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...