Home » কলাম-ফিচার » বেতন বৈষম্য দূর করুন

বেতন বৈষম্য দূর করুন

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

– শহিদ রাসেল –

মানবজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পরিবার। আর পরিবারের চালিকা শক্তি হলো অর্থ উপার্জনের সুব্যবস্থা। বিষয়টি রেখেঢেকে বললেও কখনোই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে এ কার্যটি সম্পন্ন হয়ে থাকে। বৈধতা-অবৈধতা বিচার না করেই বেশিরভাগ লোক এ কাজের দক্ষ কর্মী।

সম্প্রতি সরকার ক্ষেত্রটিকে নিয়ে বেশকিছু প্রকল্প গ্রহণ করেন। বেতনবৃদ্ধি এগুলোর মধ্যে সাড়াজাগানো প্রকল্প। যদিও বিষয়টি বেশ মজার কিন্তু বৈষম্য বিবেচনায় একপেশে হয়ে গেছে। এটি দূর করতে সহজ বুদ্ধিতে একটি পরামর্শ দেয়া যায়।

যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ ছাড়া এ সুবিধা ভোগ করার সৌভাগ্য খুব কম লোকেরই জোটবে। এক্ষেত্রে তাদের কপাল বা প্রদত্ত বেতনের টাকায় একটি বিশেষ চিহ্ন বা সীলমোহর দেয়া হোক। এতে করে আমরা আমজনতা ও খেটে-খাওয়া মানবগোষ্ঠি নানা প্রকার হয়রানি বা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে নিস্তার পাবে।

এছাড়া পরিবহন ও বাসাভাড়ার পাশাপাশি বাজারমূল্যের লাগামহীনতায় বিশেষ মনিটরিং দল নিয়োগে এতোটুকু ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে যে নৈরাজ্য তথা মাৎসন্যায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

এদিকে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা আর কর্মচারিদের বেতনে আকাশ-পাতাল বৈষম্য (৮০০০০/৫০০০) বিরাজমান যা কেবল সরকারের কঠোর পদক্ষেপেই দূর করা সম্ভব। এসব নামি-বেনামি প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো জবাবদিহিতা। ফলে নীতিমালাহীন অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজায় আর তীব্রতর হয়রানিতে বিষিয়ে তুলে মধ্যবিত্তসহ তৃণমূলের লাখো কোটি জনতাকে।

সে এক সহকর্মির কাছ থেকে শুনে অবাক হলাম যে, খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এলাকায় একটি নামকরা হাসপাতালে তার এক বিধবা আত্মীয়ের চাকরিতে বেতন অফার করছে ১৫০০/-(পনের শত টাকা মাত্র)। চাকরির সময়কাল দৈনিক ৮ ঘন্টা। আমি জানি মান্যবর মন্ত্রী এবিষয়ে অবহিত নন। তবে প্রশ্ন হলো এই নামমাত্র বেতনে কখনো কী বাস্তব জীবনকে কল্পনা করা যায়। এধরনের প্রতিষ্ঠান কীভাবে সমাজে সেবা করার নামে ফায়দা লুটছে তা তদন্ত করা হোক। এরকম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা সাধারণ মানুষগুলো বেশ অসহায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেয়ার যে অপসংস্কৃতি চলমান রয়েছে তাতে মেধা বা যোগ্যতা/দক্ষতার চরম অবমূল্যায়ন হচ্ছে। চোখের পলকেই কারো চাকরি হচ্ছে আর কেউ চাকরিচ্ছুত হচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহি বা গভর্নিং বডির মনগড়া প্রত্যয়নে কারো চরিত্র হচ্ছে ফুলের মতো আর কেউ কেউ হচ্ছেন ফাঁকিবাজ বা চোর অপবাদের শিকার।

মূলত আমাদের তথাকথিত সমাজে তেলবাজি তথা তোষামুদি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের বেতন থরথর করে বেড়ে যায়, পদোন্নতির জোয়ারে ভাসেন বারোমাস। আর একটু সচেতনতা প্রদর্শনেই সৎ ও আলোকিত মানুষগুলো সুক্ষ্ম কৌশলে হচ্ছেন ছাঁটাই। আমি একলাইনে সবাইকে দাঁড় করানোর পক্ষে নয়। আমি চাই মানুষগুলো মানবিক আচরণ করুক।

দয়া করে বন্ধ করুন এসব আহাম্মকির দরবার। স্বাধীন দেশের সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজগুলো থেকে পাশ করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিন। ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ও অন্যান্য ফি’র অদৃশ্য আঘাতে জর্জরিত বেকার গোষ্ঠির কর্মসংস্থানে বিদ্যুৎ গতিতে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিন। মুখোশ মানবদের চিহ্নিত করুন। মানবতার জয়গানে খালি গলা বেশি মানানসই। ঢোল/তবলা তথা বিভিন্ন মাধ্যমের চিপাগলিতে অতিষ্ট হয়ে আর ঝরে পড়া নয়। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সুযোগ দেয়া হোক।

কবি ও সাংবাদিক; চট্টগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

x

Check Also

TAWHIDUL ALAM NURY (14.02.2015) MR1000

ধারণ করি রমজানের শিক্ষা

It's only fair to share...000  :: তাওহীদুল ইসলাম নূরী :: আল- কোরআনের জ্যোতিময়ী প্রভা একমাস ...