Home » জাতীয় » প্রত্যাহার হচ্ছে জিয়ার স্বাধীনতা পদক

প্রত্যাহার হচ্ছে জিয়ার স্বাধীনতা পদক

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

zia_freedom_fighter_23276_1472159767প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পদকটি জাতীয় জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুধবার জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, এই সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেয়ার পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়। ওই সময় জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সে সময় পুরস্কারের মেডেল, সম্মাননাপত্র কোনো উত্তরাধিকারীকে না দিয়ে বাংলাদেশ জাদুঘরের একটি কর্নারে যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একটি নথি কমিটিতে পাঠানো হয়। যেখানে প্রয়াত জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি পদ বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের বিষয়টি হাইকোর্টে রিট পিটিশন আদেশের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া নথিতে স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত সংশোধিত নির্দেশমালার বিষয় উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। তাই এই পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচনকালে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অসাধারণ অবদান রেখেছেন এমন সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই বিবেচনা করা হয়।

জানা গেছে, জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হাইকোর্টের রায়। যেখানে রায়ের প্রথমেই বলা হয়, ১৯৭৫-এর নভেম্বর থেকে ১৯৭৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সংসদ ছাড়াই বাংলাদেশে সরকার চলেছে। একনায়কতন্ত্র হিসেবে দেশ চালিয়েছে সরকার। যেখানে ছিল না কোনো গণতন্ত্রের ছোঁয়া।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটি সুপ্রিমকোর্টের আপিলেট ডিভিশনের আদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সেখানে বলা হয়, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তি পাওয়া উচিত। যেন মানুষ সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভয় পায়।’ যেহেতু রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা আরোহণকে আপিলেট ডিভিশন অবৈধ ঘোষণা করেছেন, এটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

এছাড়া কমিটি মনে করে, স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত ২০১৬ সাল পর্যন্ত সংশোধিত নির্দেশাবলী ২০০৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ পুরস্কার জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে আগামী প্রজন্মের কাছে তা ভুল ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপিত হবে। একইসঙ্গে একটি ভুল বার্তা যাবে। যে কারণে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  যুগান্তর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জনসচেতনতা বাড়াতে ঝাড়– হাতে ময়লা পরিস্কার করলেন মেয়র মুজিব

It's only fair to share...32300সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ::  সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ৩ শতাধিক পরিচ্ছন্নকর্মী, পৌর ...