ঢাকা,বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  স্বাস্থ্য কর্মীদের ভাতার ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শোভন দত্তের বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ কার্যক্রমে জীবনবাজি রেখে দায়ের পালনকারী স্বাস্থ্য  কর্মীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাৎ ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।

 উপজেলায় কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের পক্ষ থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারী আত্মসাতের এমন অভিযোগ এনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় কক্সবাজার ১ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও দূর্ণীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টাকা আত্মসাতের বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চকরিয়া  উপজেলায় কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের নামে চকরিয়া  থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছেন ডাঃ শোভন দত্ত।

উল্লেখিত অনিয়ম দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের বিষয় নিয়ে স্থানীয়  সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগী চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মী সমিতির সভাপতি আজিজুল মন্নান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে  কোভিড-১৯ এর দায়িত্ব পালনকারী চকরিয়া উপজেলার ৬০ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৮ লাখ টাকা কৌশলে আত্মসাৎ করেছেন ডাঃ শোভন দত্ত। অথচ বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা তহবিল ইউনিসেফ ও  ব্র্যাক এর পক্ষ থেকে প্রতিজন কোভিড টিকা কর্মীর সম্মানী ভাতা হিসেবে ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য সহকারীদেরকে উক্ত টাকা প্রদান করা হলেও একইসঙ্গে দায়িত্ব পালন করা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কোন কর্মচারীদের কে কোন ধরনের টাকা প্রদান করা হয়নি। কিন্ত তিনি  (ডাঃ শোভন দত্ত) আমাদের সম্মানী ভাতা না দিয়ে উল্টো গালিগালাজ ও অসম্মানী করেন।

কোভিড-১৯ এর জন্য প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক- পরিবার কল্যাণ সহকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান না করে উক্ত টাকা সুকৌশলে আত্বসাৎ করা হয়েছে।

চকরিয়া পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আবদুল মজিদ সাংবাদিকদের কাছে বলেন,  কোভিড-১৯ এ দায়িত্ব পালনের ভাতার টাকার জন্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান রুদ্রসহ কয়েকবার ওনার অফিসে যাই, প্রতিবারেই ওনি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনজিও কর্তৃক নিয়োজিত নার্সদের সাথে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার উঠে আসছে বলে জানান তিনি।

বদরখালী ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করা এমএইচভি শেখ মুজিবুর রহমান জানান, চকরিয়া উপজেলার ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত মাল্টিপারপাস হেল্থ ভলান্টিয়ারদের (এমএইচভি) ভাতা প্রদানের সময় অফিস খরচ বলে প্রতিবারেই টাকা আত্মসাৎ করেন সহ তিনি হাসপাতালের বরাদ্দ নিয়ে নানাধরণের অনিয়ম অসঙ্গতি করেছেন। যা উচ্চপর্যায়ের কমিটি সুষ্ঠু তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

ভুক্তভোগী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একাধিক কর্মচারী বলেন, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে এনজিও কর্মীদের নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও  হাসপাতালের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন ডাঃ শোভন দত্ত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক কর্মচারী ডাঃ শোভন দত্তের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হলেও উপর মহলের সাথে আঁতাত করে প্রতিবারেই পার পেয়ে যায় বলে জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শোভন দত্ত কোভিড কার্যক্রমের টাকা আত্মসাৎ এর বিষয় সঠিক নয় বলে সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আবদুল মজিদ তার অপকর্ম ডাকার জন্য আমার বিরুদ্ধে এইধরণের অসত্য অভিযোগ দিয়ে মিথ্যাচার করছে। তাঁরা  আমার পিতাকে তুলে গালিগালাজ করেছে। এধরণের একটি বয়েজ রেকর্ডের ভিত্তিতে থানায় তাদের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া)  আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজন সাহসীকতার সাথে রোগীদের সেবা কাজ পরিচালনা করেছে। তাদের সাথে যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত: