ঢাকা,মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

 সেন্টমার্টিনে পর্যটক খরা, দ্বীপ জুড়ে হতাশা ভরা মৌসুমেও

চকরিয়া নিউজ ডেস্ক :: 
পর্যটনের ভরা মৌসুম চলছে। এসময়ে প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকের পদচারণায় বাজার ও আশপাশের সৈকত মুখর থাকতো। কিন্তু বর্তমানে সেখানে শুন শান নীরবতা বিরাজমান।
পর্যটনের ভরা মৌসুম চলছে। এসময়ে দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন প্রকৃতি প্রেমীদের পদচারণায় মুখর থাকতো। কিন্তু চলতি বছর নাভ্যতা সংকটের দোহাই দিয়ে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেওয়ায় এক প্রকার পর্যটক শূন্য রয়েছে প্রবালদ্বীপ।

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে চলাচল করা একমাত্র জাহাজ কর্ণফুলী শিপে দৈনিক পাঁচ থেকে সাতশ পর্যটক দ্বীপে যাচ্ছেন। স্বল্প সংখ্যক এ পর্যটক দিয়ে আবাসন ও রেস্তোরা ব্যবসায়ী কেউ পুষিয়ে উঠতে পারছেন না। ফলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা সেন্টমার্টিনের শতাধিক আবাসন ও শতাধিক রেস্তোরা ব্যবসায়ী, কয়েকশ ভ্যানচালক, ডাব ও মাছ বিক্রেতা সবার মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

দ্বীপের আবাসন ব্যবসায়ী মো. দিদারুল আলম বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রায় ১০ হাজার মানুষের ৯০ শতাংশই পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত। বাকি ১০ শতাংশ মানুষের রুটিরুজি নির্ভর করে সাগরে মাছ ধরায়৷ আর পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত ৯০ শতাংশ মানুষের আয় হয় মাত্র ৪ মাস। বাকি সময় গুলো ৪ মাসের আয় দিয়ে অতিবাহিত করে তারা। কিন্তু ভরা মৌসুমেও দ্বীপে আশানুরূপ পর্যটক না যেতে না পারায় লগ্নি উঠে আসবে বলে মনে হয় না। পর্যটকের এই খরা খাটিয়ে না উঠলে আয় বন্ধ হয়ে হাহাকার দেখা দিবে দ্বীপে।

সেন্টমার্টিন হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের উপলক্ষ করে হোটেল, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, ডাব বিক্রি, রিক্সাসহ নানা তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করে দ্বীপের মানুষ। কিন্তু এখন মুষ্টিমেয় পর্যটক আনাগোনা থাকায় অনেকে বেকার হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ রুট থেকে ১০টি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু এইবার নাব্যতা সংকটের অজুহাতে সেই রুটে জাহাজ বন্ধ রেখেছে সরকার। কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী নামে একটি পর্যটকবাহী জাহাজ সরাসরি চলাচল করলেও ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে সেই জাহাজ দিয়ে পর্যটকরা সহজে দ্বীপে যেতে চায় না। একটি কুচক্রী মহল এককভাবে লাভবান হওয়ার অপচেষ্টায় টেকনাফ রুটের জাহাজ বন্ধ রেখেছে। দ্বীপের মানুষের কষ্টের কথা কেউ ভাবে না বলে দাবি তাদের।

সি-ক্রোজ অপারেটরস ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে নাফনদীর বিকল্প পথে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জাহাজ পারাপার সম্ভব। নাফনদীর নাব্যতা সঙ্কট এড়াতে বর্তমান দমদমিয়া ঘাটের বিকল্প হিসেবে টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক সংলগ্ন সৈকত থেকে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা যায়। ওখানে জাহাজ মালিকদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি অস্থায়ী টেকসই কাঠের জেটি নির্মাণ করে পল্টুন স্থাপনের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল শুরু করলে পর্যটকদের ঝুঁকিমুক্ত ভাবে পার করানো সম্ভব। সাবরাং পয়েন্ট থেকে জাহাজ বের হয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পড়ায় জাহাজগুলো সরাসরি সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে পৌঁছানো অধিকতর সহজ। এতে করে ভাড়াও বাড়বে না সময়ও কম লাগবে।

স্কোয়াব সাধারণ সম্পাদক ও কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স’র কক্সবাজারস্থ সমন্বয়ক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, দু’দশক ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে দেশী-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে আসছি আমরা। পর্যটন বিকাশের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব খাতে বড় অবদান রাখা হচ্ছে। কক্সবাজারে প্রতিবছর ভ্রমণে আসা ২০-২৫ লাখ পর্যটকের ৭০ শতাংশের চাহিদা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ। পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করেই পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করানো হয়। তাতে কয়েকশত মানুষের বিনিয়োগে টেকনাফ, উখিয়া ও সেন্টমার্টিনে গড়ে উঠেছে উন্নত মানের হোটেল-মোটেল রিসোর্ট ও অসংখ্য রেস্তোরা। এতে সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে ১০টি জাহাজ চলাচল করায় কম খরচে পর্যটকরা প্রবালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পান। কিন্তু বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা খুবই হতাশার।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দ্বীপবাসীকে হাহাকার থেকে রক্ষায় টেকনাফ রুটে জাহাজ চলাচল চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেন, একটা সেন্টমার্টিন নিয়ে কক্সবাজার, টেকনাফ কেন্দ্রিক অগণিত মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এখন বলতে গেলে সকলেই বেকার। অসংখ্য পরিবার পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। অনেকের চুলায় হাড়ি না ওঠার অবস্থা চলছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, পর্যটনের কথা বিবেচনা করে ট্যুরস অপারেটর এসোসিয়েশন (টুয়াক) ও স্কোয়াবের আবেদনটি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। টেকনাফে বিকল্প স্পট হতেই জাহাজ ছাড়া সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছে। ঊর্ধ্বতন মহলে তা মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, অতিদ্রুত মিটিংয়ের রেজুলেশন কপিও পাঠানো হবে। আশা করছি সমস্যা সমাধান হবে। সুত্র: ইত্তেফাক

পাঠকের মতামত: