ঢাকা,সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১

চকরিয়া-পেকুয়ার ১৬ ইউপি নির্বাচন/২১

নৌকা পেতে ৭০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর দৌঁড়ঝাপ ঢাকায়, ভাগ্য নির্ধারণ আজ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া :: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ৭০ চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা নৌকার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ ২৪ অক্টোবর চকরিয়া-পেকুয়ার ১৬টি ইউনিয়নের নৌকার মনোনীতদের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ১৭ অক্টোবর ১৬টি ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

এদিকে চকরিয়া-পেকুয়ার আলোচিত হ”েছ সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। পোস্টারে ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। চলছে প্রার্থীদের চুলচেড়া বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক দলের ‘গ্রুপ রাজনীতিতেও’ প্রভাব ফেলছে ভোটারদের। এমনকি প্রার্থীদের পূর্ব পুরুষের কর্মকান্ড আলোচনায় চলে আসছে।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ জানায়, প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে ৪-৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন চাইলেও একমাত্র কৈয়ারবিল ইউনিয়নে নৌকার জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন দুইজন। তাঁরা হলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা শহীদ হোছাইন চৌধুরীর ছেলে প্রবাসি বিএনপি নেতা আফজালুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক জন্নাতুল বকেয়া রেখা।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে কৈয়ারবিলে নৌকার প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ চৌধুরী। কিš‘ এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হ”েছন না।

অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান হানুকে সুবিধা দিয়ে নির্বাচন থেকে দুরে রেখেছেন বিএনপি পরিবারের সদস্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আফজালুর রহমান চৌধুরী। সেইজন্য বিএনপির হাতে নৌকা তুলে দি”েছন বলেও অভিযোগ এনেছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন অফিস জানায়, অগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় দফায় চকরিয়ার ১০টি ও পেকুয়ার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চকরিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলো হলো, বদরখালী, কোনাখালী, পশ্চিমবড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বিএমচর, সাহারবিল, পূর্ববড়ভেওলা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল ও কাকারা। পেকুয়ার মধ্যে, পেকুয়া সদর, মগনামা, উজানটিয়া, শীলখালী, বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়ন। এবারের নির্বাচনে পেকুয়া উপজেলার ৬টির মধ্যে সদর ইউনিয়নে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রতি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে ৪৬ জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্য থেকে কেন্দ্রের মনোনয়ন বোর্ড দলীয়ভাবে চুড়ান্ত মনোনয়ন দিবে একজনকে। আর এবারের নির্বাচনে একের পর এক চমক দেখা”েছ সরকারিদল। তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছায়ের প্রক্রিয়া শেষ করে তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে দলটির নেতৃবৃন্দ। তবে অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই আগের চেয়ে সতর্কভাবে এবারের প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

আগামী ২৮ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে নুরে হোছাইন আরিফ, একে ভুট্টো সিকদার, দেলোওয়ার হোছাইন, শেখ সালাহউদ্দিন ও হামিদউল্লাহ। পশ্চিম বড়ভেওলায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, রবিউল এহেছান লিটন, ডা.গিয়াস উদ্দিন, নিয়ামত উল্লাহ মনু ও কাইছারুল বা”চু। ঢেমুশিয়ায় মঈনউদ্দিন চৌধুরী, জাহানারা পারভীন, মমতাজ বেগম, আমির হোসেন হাজারী, মোহাম্মদ হোসেন ও আসফি চৌধুরী। কোনাখালীতে দিদারুল হক সিকদার, জাফর আলম ছিদ্দিকী, সোলতান মাহমুদ টিপু ও মনছুর আলম। বিএমচরে বদিউল আলম, তোফায়েল আহমদ ও শহীদুল ইসলাম খোকন। পূর্ববড় ভেওলায় খলিল উল্লাহ চৌধুরী, ফারহানা আফরিন মুন্না, ইব্রাহিম খলিল ও কামরুজ্জামান সোহেল। সাহারবিলে মহসিন বাবুল, সরওয়ার আলম ও মোজাহের আহমদ। কাকারায় শওকত ওসমান, সাহাব উদ্দিন ও ইছমত আলী। কৈয়ারবিলে আফজালুর রহমান ও জন্নাতুল বকেয়া রেখা। লক্ষ্যারচরে রেজাউল করিম সেলিম, আওরঙ্গজেব বুলেট, সাইকুল ইসলাম, এমএ রাশেদ ও মহিউদ্দিন মোমেন। পেকুয়ার মগনামায় খাইরুল এনাম, ফরহাদ ইকবাল, নাজিম উদ্দিন, খোরশেদুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক। উজানটিয়ায় শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, তোফাজ্জল হোসেন, আকরাম হোসেন ও ছাদেকুর রহমান। পেকুয়া সদর আবুল কাশেম, জহিরুল ইসলাম, মাহাবুবুল আলম মুকুল, বেলাল উদ্দিন ও ওমর রিয়াদ চৌধুরী। বারবাকিয়ায় জিএম আবুল কাশেম, মো.বারেক, কফিল উদ্দিন বাহাদুর, এসএম জাকারিয়া ও সালাহউদ্দিন। শীলখালীতে কাজীউল ইনসান ও নুরুল আলম। রাজাখালীতে নজরুল ইসলাম বাবুল, ছৈয়দ নুর ও নাছির উদ্দিন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কিছু প্রার্থী নিজেকে জনপ্রিয় মনে করে নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়া”েছ। এতে দলীয় কোন্দল দূর করা যায় না। সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। তৃণমূলের রাজনীতিতে ঐক্য ধরে রাখতে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে একবার বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ওই নেতাকে আর কখনই নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না। শুধু তাই নই, ওই বিদ্রোহী প্রার্থীকে আজীবনের জন্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হবে। তিনি সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয় প্রতীকের পক্ষে কাজ করে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

 

পাঠকের মতামত:

 
error: Content is protected !!